i

বিবিধ


ল-ক্লার্ক দের পেশাগত সংকট ও বঞ্চনা


বসির মল্লিক

সারা ভারতবর্ষ ব্যাপী পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে দেশ ও রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। নিউজ চ্যানেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এমনকি সংসদ ভবন, বিধানসভা সর্বত্রই পরিযায়ী শ্রমিক, কর্মহারা শ্রমিক, দিন মজুরদের নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। কর্মহারা জীবন জীবিকা হারা মানুষদের নিয়ে সর্বদা চর্চা হোক, আলোচনা হোক, তাদের জীবিকা বাঁচানোর লড়াই জারি থাকুক। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হিসাবে, একজন গণসংগঠনের নেতৃত্ব হিসাবে আমরা সবসময়ই রুজি রোজগারের লড়াই সংগ্রামের পাশে আছি, অদূর ভবিষ্যতে থাকবো। আজ আমার কলম লিখতে চলেছে এমন একটি পেশাগত মানুষদের নিয়ে যাদের পেশা সংকটময়, যারা আজ অবলুপ্তির পথে।

আমলাতান্ত্রিক যাঁতাকলে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি সংস্কার দপ্তরের ল-ক্লার্কদের চিত্র করুন। দশকের পর দশক ধরে গাছতলায় বা আটচালায় বসে সাধারন কৃষকদের জমি সংক্রান্ত কাগজপত্রের সমস্যার সমাধানে সহায়তা প্রদান করে আসছে, নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। সারা বাংলা জুড়ে প্রায় কয়েক লক্ষ্য পরিবার তাদের সন্তান সন্ততিদের পড়াশোনা, বয়স্ক ল-ক্লার্কদের চিকিৎসা, এমনকি সংসার চালানো দুস্কর হয়ে পড়ছে। বছরের পর বছর শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে ল-ক্লার্করা নিয়মিত অফিস চত্বরে হাজির থাকেন সাধারন মানুষের সেবার্থ্যে। আমলাদের চোখরাঙানি, অফিসে অফিসে কালা বিজ্ঞপ্তি জারি করে অফিস চত্বর থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত ল-ক্লার্ক রা আজ বঞ্চিত, অবহেলিত, তাদের পেশাকে হাইজ্যাক করা হচ্ছে। ভূমি সংস্কার অফিসের চারপাশে আজ দালালের ছড়াছড়ি।

যারা কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত। এমনকি অফিস গুলির পার্শ্ববর্তী অনলাইন সেন্টার গুলিতে দালালদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। অফিস গুলিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ল-ক্লার্কদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থার্ডপার্টি এজেন্ট দের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অফিস গুলিতে বিভিন্ন আধিকারিক/ক্লার্ক দের এমনকি গ্রূপ-ডি কর্মীদের মদতে থার্ডপার্টি এজেন্ট দের রমরমা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনঠাসা হয়ে পড়ছে ভূমি সংস্কার অফিস চত্বরে ল-ক্লার্ক রা। অনেকেই কর্মহারা, সংসার চালানো দুস্কর হয়ে পড়ছে। বর্তমান ডিজিটালাইজেশন এর যুগে, ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রায় সব কাজ কর্ম অনলাইনে হওয়ায় বয়স্ক ল-ক্লার্ক রা আজ অসহায়। তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তাদের অসহায়তার সুযোগে দালাল রা কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

এই ভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভূমি সংস্কার অফিসের ল-ক্লার্কদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। অফিস গুলিতে দালালরাজ চলবে। রায়তদের প্রতি যাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না। তারা মোটা টাকা রোজগারের নেশায় মানুষ কে স্বর্বশান্ত করবে।