ল-ক্লার্কদের অধিকার
দলিল রেজিস্ট্রেশনে ল-ক্লার্কদের আইনি অধিকার (প্রথম পর্ব)
সৌমিত্র নস্কর
পশ্চিমবঙ্গে ল-ক্লার্কদের দলিল রেজিস্ট্রেশনের আইনি অধিকার আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। 'পশ্চিমবঙ্গ ল-ক্লার্ক আইন, ১৯৯৭' অনুযায়ী একজন ল-ক্লার্ক এই অধিকার ভোগ করেন কি না, সেই বিতর্কে প্রবেশের আগে দলিল লিখন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি মালার প্রেক্ষাপট আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় মূল বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাবে। মনে রাখতে হবে, সব আইনের প্রেক্ষাপট এক হয় না। কিছু আইন সরকার নিজস্ব প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রণয়ন করে, যার সুফল সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা পেয়ে থাকেন। কিন্তু কিছু আইন অর্জিত হয় দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে। 'পশ্চিমবঙ্গ ল-ক্লার্ক আইন, ১৯৯৭' ঠিক তেমনই একটি রক্তঘামে অর্জিত অধিকারের দলিল। স্বাধীন ভারতে তথাকথিত 'ক্রীতদাস প্রথা' থেকে মুক্তির দাবিতে হওয়া তীব্র আন্দোলন এবং ত্যাগের মধ্য দিয়েই এই আইন ছিনিয়ে আনতে হয়েছিল। তবে আক্ষেপের বিষয়, আইন প্রণয়ন হলেও এর সুফল পাওয়ার লড়াই আজও থামেনি। যে আইনসভা এই আইনটি পাস করেছিল, দুর্ভাগ্যবশত তাদেরই সদিচ্ছার অভাবে আইনে উল্লেখিত অধিকারগুলো আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের (১৯০৮ সালের ১৬ নং আইন) ৮০ C ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পশ্চিমবঙ্গের Inspector General of Registration এই বিষয়ে পূর্ববর্তী সকল বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে The West Bengal Registration (Deed Writers) Rules’1999 প্রণয়ন করেন এবং ৪ঠা এপ্রিল ২০০০ সালে বিজ্ঞপ্তি আকারে সেটি প্রকাশ করেন।
"দলিল লেখক" এর অর্থ এমন একজন ব্যক্তি যিনি দলিল প্রস্তুত করার, যথা, দলিল এবং নিবন্ধনের জন্য স্ট্যাম্প পেপারে দলিল লিখন করার পেশায় নিযুক্ত আছেন এবং The West Bengal Registration (Deed Writers) Rules’1999 বিধিমালার অধীনে জেলা রেজিস্ট্রার দ্বারা একটি লাইসেন্স ধারন করেন। এই বিধিমালায় লাইসেন্স বিহীন ব্যক্তিদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই বিধিমালা অনুসারে লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক নন এমন কোনো ব্যক্তি দলিল লেখকের পেশায় নিযুক্ত হতে পারবেন না। তবে The West Bengal Registration (Deed Writers) Rules’1999 অনুসারে শর্ত থাকে যে, রাজ্যের কোনো আদালতে অনুশীলনরত কোনো আইনজীবী বা উকিল, অথবা কোনো সলিসিটর কে এই বিধিমালা অনুসারে আলাদা ভাবে দলিল লিখনের লাইসেন্স গ্রহন করতে হবেনা।